গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রকাশিত ক্যানসার নিবন্ধন পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪ সালে ইংল্যান্ডে মোট ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭৪টি নতুন ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে। দৈনিক গড় হিসেবে এই সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ২১। নির্দিষ্ট দুই ধরনের ত্বকের ক্যানসার এই হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে।

এনএইচএসের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের তুলনায় নতুন ক্যানসার শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে ১১ হাজার ৮৩৩টি, অর্থাৎ প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। জনসংখ্যায় প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এর একটি কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বয়স ও লিঙ্গের প্রভাব সমন্বয় করার পরও ক্যানসার শনাক্তের হার বেড়েছে।

রোগ শনাক্তের এই চিত্রের পাশাপাশি সময়মতো সেবা পাওয়ার প্রশ্নও সামনে এসেছে। ক্যানসারবিষয়ক দাতব্য সংস্থাগুলো বলছে, আরও বেশি রোগী শনাক্ত হলেও রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরুর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে পিছিয়ে রয়েছে এনএইচএস।

২০২৬ সালের আগস্টে জরুরি ভিত্তিতে পাঠানো সন্দেহভাজন ক্যানসার রোগীদের মধ্যে ৭৮ দশমিক ৬ শতাংশকে ২৮ দিনের মধ্যে রোগ নির্ণয় অথবা ক্যানসার নেই বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এই সেবার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮০ শতাংশ।

ক্যানসার রিসার্চ ইউকের নীতিবিষয়ক নির্বাহী পরিচালক ডা. ইয়ান ওয়াকার চিকিৎসায় বিলম্ব কমাতে বিশেষজ্ঞ জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ধারাবাহিক উদ্যোগ এবং স্পষ্ট জবাবদিহি প্রয়োজন।

অন্যদিকে, এনএইচএসের ক্যানসারবিষয়ক জাতীয় ক্লিনিক্যাল পরিচালক অধ্যাপক পিটার জনসন জানিয়েছেন, রোগীদের কাছাকাছি পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে এনএইচএস। যোগ্য ব্যক্তিদের স্ক্রিনিংয়ে অংশ নেওয়া এবং সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে জিপির সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র: এনএইচএস ইংল্যান্ড, দ্য গার্ডিয়ান ও দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।