ইউনূসের অধীনে চাকরি করার অসম্মতি জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন তানজিল মুসা দ্বিতীয় সচিব ম্যানচেস্টার মিশন, যুক্ত্রাজ্য !
তার ফেইসবুক পোস্ট হুবুহু তুলে ধরা হল……
“৫ আগস্ট ২০২৪, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করার পরে সেনাবাহিনী প্রধানের মিডিয়া বক্তব্য দেখে কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে ছিলাম। রাষ্ট্রের কর্মচারীদের (সিভিল বা মিলিটারি) এমন discretionary power নাই যে তারা একটা নিয়মতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে পারে। অবাক হয়ে গেলাম, যখন দেখলাম সমসাময়িক, সিনিয়র জুনিয়র কলিগদের ভাষাও বদলে গেছে।
বিকাল বেলা বাচ্চার জন্য দুধ কিনতে বের হলাম, মূর্খের ফুর্তি দেখে অসহায়বোধ করতে থাকলাম। ৭৫ এর ১৫ আগস্টে যে দমবন্ধ পরিস্থিতি হয়েছিল তার সমান্তরাল অনুভূতি আসতে লাগলো।
বাসায় ফিরে দেখলাম, বয়োবৃদ্ধ বাবা মনোকষ্ট নিয়ে সোফায় বসে আছেন। লোকটা এই জীবনে ২ টা বড় বিপর্যয় দেখলেন।
ধীরে ধীরে মানুষের প্রকৃত চেহারা দেখতে শুরু করলাম।বিতৃষ্ণা লাগা শুরু করলো। পোস্টিং অর্ডার হওয়া ছিল আগে থেকেই। চলে আসলাম দেশের বাইরে।
বিতৃষ্ণা আরো বাড়তে লাগলো illegitimate government এর কাজকারবারে। পরিবার পরিজন আর বিশ্বাসযোগ্যদের সাথে কথা বলতাম, ভালো লাগতেসে না আর এই চাকরি করতে। সবাই না করতো। যাই হোক, রাষ্ট্রীয় নির্বাহী দায়িত্ব মহামান্য রাষ্ট্রপতির নামে করে যাচ্ছিলাম, যদিও নির্বাহী বিভাগ থেকে শুরু করে বিচার বিভাগ সহ সবই হানাদার রাজাকার ও এ আদর্শের লোকেরা দখল করে নিয়েছে জনগণের সাথে প্রতারণা করে।
৭১ এ আমাদের বাপ চাচারা যুদ্ধ করে দখলদারদের থেকে দেশকে মুক্ত করেছিলেন, তেমনি এখন রাজাকার আলবদর হানাদারদের থাবা থেকে এদেশকে আবার মুক্ত করতে হবে।
তা না পারলে আমাদের বাচ্চা আর পরের প্রজন্মকে কি জবাব দিব?!
বাংলার সব মানুষ জানে, এই ভূখন্ডের ইতিহাসের যত গৌরবোজ্জ্বল অর্জন, তা কাদের হাত ধরে এসেছে। কেউ স্বীকার করে, আর কতক স্বীকার করে না, এই! যারা স্বীকার করে, তারাই যথেষ্ট!
তিমির রাত্রি, মাতৃমন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান!
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু!
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক!”
তানজিল মুসা
দ্বিতীয় সচিব
ম্যানচেস্টার মিশন, যুক্ত্রাজ্য
৩৮ বিসিএস পররাষ্ট্র
